ত্বকের তৈলাক্তভাব কমানোর উপায়

0
93

সৈয়দা সুলতানা খান নিপা : বর্ষার আর্দ্রতায় ত্বক তৈলাক্ত হয়ে যায়। লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণের সৃষ্টি হয়। ফলে ব্রণও বাড়ে। ত্বক হয়ে যায় মলিন। তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ বেশি হয়। তৈলাক্ত ত্বকের তৈলাক্ততা এই গরমে আরো বেড়ে যায়। আর এই জন্য এটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন অনেকে। ত্বকের তৈলাক্তভাব কমাতে যা যা করণীয়-

ত্বক পরিষ্কার রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো খুব বেশি প্রসাধনী ব্যবহার না করা। ভারী মেকআপ লোমকূপ আবদ্ধ করে ফেলে ও বাড়তি তেল উৎপাদন করে। ত্বককে শ্বাস নিতে দিন। প্রয়োজনে হালকা প্রসাধনী ব্যবহার করুন। এই গরমে আগের প্রসাধনী বাদ দিয়ে তৈলাক্ত ত্বকের সঙ্গে মানানসই এমন প্রসাধনী ব্যবহার করুন। এই সময়ে ত্বক মসৃণ করে এমন ফেইসওয়াশের বদলে ত্বক পরিষ্কার রাখে তা ব্যবহার করুন। ক্রিম নির্বাচনের ক্ষেত্রে তরল বা জেলধর্মী ক্রিম ব্যবহার করুন।

করোনার জন্য সবাই মাস্ক ব্যবহার করে বলে স্বাভাবিকের চেয়ে ত্বক বেশি তৈলাক্ত হয়ে যায়। স্বাভাবিকের চেয়ে ত্বক খুব বেশি তৈলাক্ত হয়ে গেলে ‘ক্লে মাস্ক’ ব্যবহার করতে পারেন। এতে চিটচিটেভাব কমবে। ত্বকের তেল কমাতে মুলতানি মাটি ব্যবহার করতে পারেন। দ্রুত ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে লেবু কার্যকর। সরাসরি ত্বকে লেবু ব্যবহার করা উচিৎ নয়। লেবুর রসের সঙ্গে ময়দা মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। তুলায় দুধ ভিজিয়ে নিয়ম করে প্রতিদিন দুবার ত্বকে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। দুধের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিলে ত্বক পরিষ্কারও হবে।

শসা ব্লেন্ড করে টক দই মিশিয়ে নিন ভালোভাবে। এরপর ১০ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন। এটা তৈলাক্ত ত্বকে একই সঙ্গে ক্লিনজার ও টোনারের ভূমিকা পালন করবে। কমলার রস মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এতে তৈলাক্ত ভাবও অনেকটা কমে যাবে। তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণের সমস্যা দূর করতে নিম ভালো প্রতিষেধক। সিদ্ধ নিমপাতা থেঁতো করে পুরো মুখে লাগিয়ে রাখুন আধা ঘণ্টা। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

টমেটো রস ২ টেবিল চামচ ও মধু ১ চা চামচ একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে রাখুন ১০ মিনিট। এই পেস্টটি তৈলাক্ত ভাব কমাবে এবং ত্বকের মরা চামড়া দূর করবে। চন্দন ১ চা চামচ ও হলুদের গুঁড়া ১ চা চামচ একসঙ্গে লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এরপর প্যাকটি মুখে লাগিয়ে রাখুন ১০ থেকে ১৫ মিনিট। ত্বক থেকে তৈলাক্তভাব দূর করার পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনবে।

গোলাপের পাপড়ি ১ কাপ, গোলাপজল দেড় কাপ একসঙ্গে সিদ্ধ করে নিন। এরপর ভালোভাবে ছেঁকে তাতে অ্যালোভেরার নির্যাস মিশিয়ে রাখুন। তৈলাক্ত ত্বকে ব্যবহার করুন। ময়েশ্চারাইজারের কাজ করবে। বর্ষার মৌসুমে ত্বক ভালো রাখতে দিনে দুতিনবার মুখ ধোয়ার অভ্যাস করে নিন।

আজকালতো অনেকেই অফিসে কাজ করেন, যাদের কসমেটিকস বেশি ব্যবহার করতে হয়। তাদের বেলায় একটু বেশি সমস্যা। কারণ, তৈলাক্ততার জন্য এটা হয়। এরপর মেকআপ দিলে আরো বেড়ে যায়। সেই ক্ষেত্রে অফিসের সময় ছাড়া বা প্রয়োজনীয় সময় ছাড়া বিনা প্রয়োজনে অযথা মেকআপ লাগানো উচিৎ নয়। লাগালে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।

আসলে ত্বকতো আর পরিবর্তন করা যাবে না। কতগুলো জিনিস বুঝে চলতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। সেটি হলো কিছু নির্দিষ্ট সাবান রয়েছে, সেই সাবানগুলো ব্যবহার করলে তৈলাক্তভাব কমিয়ে রাখা যায়। সেগুলো ব্যবহার করতে হবে। আর নির্দিষ্ট সাবান, শ্যাম্পু ব্যবহার করলে তৈলাক্ততা অনেকটা কমে থাকে।