যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কে নতুন উচ্চতার প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর

0
26

নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়া কমলা হ্যারিসকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আলাদা অভিনন্দন বার্তা প্রদান করা হয় বলে রোববার প্রধানমন্ত্রী প্রেস উইং থেকে জানানো হয়। বাইডেনের মেয়াদে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে বলেও রোববার দেশটির নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে পাঠানো এক শুভেচ্ছাবার্তায় আশা প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা।

রোববার প্রধানমন্ত্রী প্রেস উইং থেকে এই অভিনন্দন বার্তার কথা জানানো হয়। গত ৩ নভেম্বর ভোটগ্রহণ শেষে চারদিন ধরে গণনার পর পেনসিলভেইনিয়ায় রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে ভোটের ব্যবধান বাড়িয়ে বাইডেন জয়ী হওয়ায় রাজ্যের ২০টি ইলেকটোরাল ভোট চলে আসে তার পক্ষে। আর তাতেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ২৭০টির বেশি ইলেকটোরাল ভোট হয়ে যায় বাইডেনের। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের ২১৪ ইলেকটোরাল ভোটের বিপরীতে বাইডেনের ভোট দাঁড়ায় ২৭৯টি।

বাইডেনের রানিং মেট কমলা হ্যারিস প্রথম নারী, প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ও প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। রোববার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক এক শুভেচ্ছাবার্তায় নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রত্যাশা ব্যাক্ত করে বলেন, প্রথম নারী হিসেবে কমলা হ্যারিসের এ জয় আমেরিকায় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা ও নারীদের অগ্রগতিতে ও তাদের স্বপ্নপূরণের ক্ষেত্রে প্রেরণা যোগাবে।

প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন ‘যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হতে সাম্প্রতিক নির্বাচনে আপনার বিজয়ে আমি এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ অত্যন্ত আনন্দিত। চার দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির জনগণের কল্যাণে আপনাদের অসাধারণ নেতৃত্ব যে নিষ্ঠা ও প্রতিশ্রুতির স্বাক্ষর রেখেছে, আপনার দুর্দান্ত বিজয়ের মধ্যে দিয়ে জনগণের সেই বিশ্বাস এবং আস্থারই প্রতিফলন ঘটেছে বলে আমি মনে করি।’ বার্তায় শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের চমৎকার ও অটুট বন্ধনের কথা উল্লেখ করে বলেন ‘আপনি আপনার দেশের শীর্ষ পদে থাকার সময়ে এই সম্পর্ক নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আমি মনে করি।

‘এছাড়াও অভিন্ন স্বার্থের পাশাপাশি সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ড, রোহিঙ্গাদের মতো জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত করার বিরুদ্ধে এবং নিরাপদ ও উন্নত বিশ্ব গড়তে আপনার সঙ্গে আমি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।’ বাংলাদেশ নিজস্ব প্রচেষ্টায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো বন্ধু রাষ্ট্রের সহযোগিতায় এক অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা সচক্ষে দেখার জন্য বাইডেন এবং ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও জানান শেখ হাসিনা।

তিনি যুক্তরাষ্ট্র দেশটির জনগণের শান্তি, উন্নতি, সমৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারের সদস্যদের সুস্বাস্থ্য, সুখি এবং দীর্ঘায়ু কামনা করেন। ইতোমধ্যে জার্মান চান্সেলার এঙ্গেলা মারকেল, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সাঞ্চেস, গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিটসোটাকিস, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বাইডেনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।