ইউরোপ-চীনের সম্পর্ক উন্নয়নের আশা বাইডেনে

0
31

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নানা কারণে ট্রাম্পের সময় অনেকটা অস্বস্তিতে ছিলেন মার্কিন মিত্ররা । ইউরোপ থেকে জার্মানী কিংবা ন্যাটো সবাই ক্ষুব্ধ ছিল মার্কিন প্রেসিডেনন্টের উপর। প্যারিক চুক্তি কিংবা ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তি থেকে ট্রাম্প অনেকটা একক সিদ্ধানে বেড়িয়ে গেছেন। বাণিজ্যযুদ্ধ বাজিয়ে বিশ্ববাণিজ্যে টালমাতাল অবস্থা বাধিয়ে দেন তিনি। তবে বাইডেনের জয়ে অনেকটা আশাবাদী হচ্ছেন ইউরোপ বিভিন্ন দেশের নেতারা।

এমনকি চীন-ইরানও উত্তেজনা প্রশমনের প্রত্যাশা করছে। আমেরিকায় সরকার বদলায়, বিদেশনীতি বদলায় না বলে যে ধারণা চালু আছে, তা অনেকাংশে সত্য হলেও এবার ব্যতিক্রমটা স্পষ্ট। কেননা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি নিয়ে মিত্রদের থেকে অনেকটাই দূরে সরে গিয়েছিলেন এবং তার একলা চলার নীতির কারণে আন্তর্জাতিক পরিসরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের অবস্থান কিছুটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জলবায়ু চুক্তি এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার মতো বৈশ্বিক কাঠামোয় শূন্যস্থান পূরণে এগিয়ে আসছিল চীন এবং অন্যরা। এ অবস্থা থেকে থেকে উত্তরণের নতুন আশা দেখা যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ওরসুলা ভনডের রবিবার গণমাধ্যমকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের সাথে সর্বাত্মক সহায়তা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিজয়ী ঘোষিত হওয়ার আগেই বাইডেনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ফিজির প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিনন্দনবার্তার মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ মোকাবিলায় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বানটিও যুক্ত করেছিলেন।

জো বাইডেনের বিজয়ে বিশেষভাবে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে ইউরোপ। উত্তর-আটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটোতে মিত্রদের সঙ্গে ট্রাম্পের যে একধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা মোটামুটি সবারই জানা। ট্রাম্প মিত্রদের কাছ থেকে আরও বেশি অর্থের জন্য চাপ দেওয়া ছাড়াও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সবাইকে আস্থায় নেওয়ার ধার ধারতেন না। সিরিয়ায় আইসিসবিরোধী অভিযানে সফল হওয়ার পর মিত্রদের না জানিয়েই তিনি আমেরিকান সেনাদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এতে কী ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার বিবরণ তখনকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিসের জবানিতে সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড তাঁর বইতে লিখেছেন। চীন নিজস্ব রাজনৈতিক মডেলের প্রসার ঘটিয়ে এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বিশ্বে তার প্রভাব বাড়াচ্ছে উল্লেখ করে বাইডেন লিখেছেন, চীন হচ্ছে একটি আলাদা চ্যালেঞ্জ।

তাঁর কথায়, ‘চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর হওয়ার প্রয়োজন নেই’। মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অন্যান্য অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করতে পারে বলে মন্তব্য করে তিনি লিখেছেন, চীন বিশ্ব অর্থনীতির অর্ধেক অংশকে কীভাবে উপেক্ষা করবে? এই শক্তিকেই কাজে লাগাতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেন জেতার খবরে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর সম্পাদকীয়তে আজ সোমবার আশাবাদী সুর লক্ষ করা গেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো পূর্বাভাস দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার হতে পারে এবং বাণিজ্য দিয়েই তা শুরু হতে পারে।