দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সংশোধিত এডিপিতে

0
32

নিউজ ডেস্ক : মহামারীর মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে অগ্রাধিকার দিয়ে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ-এনইসি। এনইসি চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সংশোধনী প্রস্তাবে এডিপির আকার দুই লাখ পাঁচ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে এক লাখ ৯৭ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা করা হয়েছে।

এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসবে এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়ন করা হবে ৬৩ হাজার কোটি টাকা। অবশ্য স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ১১ হাজার ৬২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকাসহ সংশোধিত এডিপি দুই লাখ ৯ হাজার ২৭১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। সংশোধিত এডিপি বা চূড়ান্ত এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তা খাতে কমছে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। ফলে চূড়ান্ত উন্নয়ন বাজেট দাঁড়াচ্ছে এক লাখ সাড়ে ৯৭ হাজার কোটি টাকায়। এতে দারিদ্র্য বিমোচনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রকল্পসমূহের অগ্রাধিকার বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

সংশোধিত এডিপিতে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতে ১৪ হাজার ৯২১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মূল এডিপির সাত দশমিক ৫৫ শতাংশ। মূলত কোভিড-১৯ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতকে এবারের সংশোধিত এডিপিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকার এখন চলমান উন্নয়ন অ্যাজেন্ডাগুলোর পাশাপাশি কোভিড-১৯ মহামারির কঠিন সময়ে জনগণের জীবিকা, খাদ্য, বাসস্থান ও টিকাদান কর্মসূচিকে প্রাধান্য দিচ্ছে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে জনগণ যেন কোনো ধরনের অর্থনৈতিক কষ্ট ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের জীবন অতিবাহিত করতে পারেন, সে লক্ষ্যে তাদের খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান ভাবনা।

সভা শেষে পরিকল্পনাসচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী সাংবাদিকদের বলেন, মূল এডিপির বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। সংশোধিত এডিপিতে ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ মানে ৭ হাজার ৫০১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা কমানো হয়েছে। সভায় এডিপির সরকারের নিজস্ব অর্থে বাস্তবায়ন অংশ সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রায় একই রাখা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। যার পরিমাণ ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা। আর বিদেশি ঋণে বাস্তবায়ন করা অংশ ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমিয়ে ৬৩ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।

তিনি জানান, কোভিডের কারণে স্বাস্থ্য খাত ও দারিদ্র্য বিমোচনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন, আইসিটি শিক্ষার উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাসকরণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন—ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, অতিবৃষ্টি ইত্যাদির ক্ষয়ক্ষতি পুনর্বাসন সংক্রান্ত প্রকল্পে অগ্রাধিকার বেশি দেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনাসচিব বলেন, সংশোধিত এডিপিতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার, অধিক কর্মসংস্থান, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, মহামারি পরিস্থিতি মোকাবিলা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পরিকল্পনাসচিব জানান, খাতভিত্তিক এডিপিতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পরিবহন খাতে। সেখানে বরাদ্দ ৪৯ হাজার ২১৩ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ খাতে ২৬ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা, শিক্ষা ও ধর্ম খাতে ২৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ খাতে ২১ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা, পল্লি উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠান খাতে ১৮ হাজার ২৯০ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ১৪ হাজার ৯২২ কোটি টাকা এবং কৃষি খাতে ৭ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ১৭টি খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।